জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন হত্যা মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ।
চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন— জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা (১৯), বর্ষার প্রেমিক মাহির রহমান (১৯) এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান (২১)। পুলিশের ভাষ্য, মাহির ছিলেন মূল হামলাকারী, বর্ষা হত্যার পরিকল্পনাকারী এবং আয়লান সহযোগী।
বংশাল থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আশরাফ হোসেন সম্প্রতি ঢাকার আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে ৫০ জন সাক্ষীর বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফরেনসিক, ডিএনএ এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার প্রতিবেদন বিশ্লেষণের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ১৫, নুরবক্স লেনের রৌশান ভিলা বাসায় ছাত্রী বর্ষাকে পড়াতে গিয়ে খুন হন তিনি। সেদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ছাত্রী বর্ষার বাসার নিচতলায় জোবায়েদকে ছুরিকাঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে তিনতলার সিঁড়িতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় একদিন পর নিহত জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রায় নয় মাসের তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, এটি তাৎক্ষণিক কোনো হামলা ছিল না; বরং এক মাস ধরে পরিকল্পনা, নজরদারি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সুযোগের অপেক্ষার পর হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়। এছাড়া তদন্তে বর্ষার সঙ্গে জোবায়েদ ও মাহিরের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়ও উঠে এসেছে। জোবায়েদের সঙ্গে বর্ষার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জিপু বলেন, অভিযোগপত্রটি প্রসিকিউশন বিভাগের জিআরও শাখায় জমা হয়েছে। সেখান থেকে আমাকে জানানো হয়েছে যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অভিযোগপত্রটি পর্যালোচনা করছেন। কাল (বুধবার) এটি জিআরওতে আসবে। এরপর বিচারকের কাছে উপস্থাপন করে নথিভুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, অভিযোগপত্রে ডিএনএ রিপোর্ট মাহিরের সঙ্গে মিলেছে। সেখানে তাঁর ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিও রয়েছে। মাহিরের বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউই বের হতে পারবে না।