মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত ব্যক্তি হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রবিবার রাতে গাইবান্ধা জেলা পুলিশের সহযোগিতায় পলাশবাড়ীর একটি মন্দির এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন বলেন, ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মানি লন্ডারিং মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। নগদ লেনদেনের পাশাপাশি হুন্ডির মাধ্যমেও অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ২ জুলাই থেকে সিআইডি তার আর্থিক লেনদেন ও সম্পদের উৎস নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। তদন্তে প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পর রবিবার মামলা দায়ের করা হয় এবং একই রাতে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়।

সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, হরিদাস চন্দ্র গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা। ২০১৯ সালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস, বদলি, হুন্ডি ও প্রতারণাসহ নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে।

তদন্তে দেখা গেছে, বৈধ আয়ের সুস্পষ্ট উৎস না থাকলেও তার ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় সমপরিমাণ অর্থ উত্তোলনের তথ্যও পেয়েছে সিআইডি, যা সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সিআইডি আরও জানিয়েছে, তার হিসাবগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছে, যার সঙ্গে তার পরিচিত পেশার কোনো সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া বনানী থানায় তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও প্রতারণাসহ একাধিক ধারায় একটি মামলার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।

২০২২ সালের নভেম্বরে র‍্যাবের অভিযানে সহযোগীসহ ঢাকার বনানী এলাকা থেকে আটক হয়েছিলেন হরিদাস চন্দ্র। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি মুক্তি পান।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর হরিদাস চন্দ্র মধ্যরামচন্দ্রপুর গ্রামে দুই একর জমির ওপর শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরে পুরাতন অবকাঠামোর পরিবর্তন করে আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেন। সেখানে ২৮ ফুট উচ্চতার শিবমূর্তি ও ৫৩ ফুট উচ্চতার কৃষ্ণমূর্তি নির্মাণ করা হয়েছে। ৮১ ফুট রামের মূর্তি নির্মাণাধীন। ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর মন্দিরটির প্রায় ৫১ ফুট উচ্চতার কৃষ্ণমূর্তি উদ্বোধন করেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার শ্রী মনোজ কুমার।

এ ছাড়া ২০১৯ সালে ময়মনসিংহ বিভাগের ফুলবাড়িয়া এলাকায় প্রায় এক বিঘা জমি কিনে সেখানে রিসোর্ট করার তথ্য পাওয়া গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে তার সম্পদের উৎস অনুসন্ধান এবং গ্রেপ্তারের দাবিতে গাইবান্ধায় বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সিআইডি জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ-সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত এখনও চলমান।