যশোরের মনিরামপুর উপজেলার চালুয়াহাটি ইউনিয়নের যুব বিভাগের সেক্রেটারি গাজী এনামুল ইসলামের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৬ জুলাই) জোহরের আজানের সময় রাজগঞ্জ বাজারে অবস্থিত তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে মনিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান হাবিব রিপন এবং ঝাঁপা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ইকরামুলের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল রাজগঞ্জের ওয়ালটন শোরুমে প্রবেশ করে অতর্কিতভাবে গাজী এনামুল ইসলামের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার কোলে থাকা নিষ্পাপ শিশুসন্তানকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। শিশুটির কান্না এবং বাবাকে অসহায় অবস্থায় মারধরের দৃশ্য উপস্থিত অনেককেই আবেগাপ্লুত করে তোলে বলে তারা দাবি করেন। পরে স্থানীয়রা আহত এনামুল ইসলামকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
এনামুল ইসলামের পরিবারের দাবি, সম্প্রতি মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আসাদুজ্জামান মিন্টু তাঁর এক বক্তব্যে বলেছিলেন— ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসংক্রান্ত নিয়োগ চলছে, এই নিয়োগে যদি জামায়াত-শিবিরের কোনো লোক চাকরির জন্য আবেদন করে তবে তার হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে। ওই বক্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন এনামুল। এনামুলের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এনামুল বলেছিলেন— রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা কোনো দলের একক সম্পদ নয়, যোগ্য প্রত্যেক নাগরিকের আবেদন করার ও সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। ওই বক্তব্যের জের ধরেই তার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, "আমরা ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন লোক শোরুমে ঢুকে এনামুলের সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে মারধর করা শুরু হয়। এ সময় তার কোলে একটি ছোট্ট শিশু ছিল। শিশুটিকে সরিয়ে দেওয়ার পরও মারধর চলতে থাকে। আমরা এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। এমন ঘটনা সত্যিই মর্মান্তিক। আমরা চাই প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনুক।"
এদিকে মনিরামপুর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি শামীম হোসাইন এক বিবৃতিতে বলেন, "একজন বাবার কোল থেকে তার শিশুসন্তানকে সরিয়ে দিয়ে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও নিন্দনীয়। মতপ্রকাশের কারণে যদি কেউ হামলার শিকার হন, তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। আমরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। পাশাপাশি জনগণের জানমাল ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কামনা করছি।"
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।